ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপির একজন নেতার বিরুদ্ধে।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।
মঙ্গলবার উপজেলার গোবিন্দাসী টি রোড এলাকায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোলাইমান হোসেন লিটন ঘটনার দিন দুই জন পুলিশ অফিসারকে হুমকি দেন।
ট্রাফিক সার্জেন্ট সবুজ ও তাঁর সহকর্মী যথারীতি নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের গোবিন্দাসী টি রোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময় ফিরোজ নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে সিগন্যালে থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান সার্জেন্ট সবুজ। মোটরসাইকেল আরোহী গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য হেলমেটও ব্যবহার করেননি। এমতাবস্থায় সার্জেন্ট সবুজ আইনানুগ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিকালে মোটর সাইকেল আরোহী বিএনপি নেতা লিটনের সঙ্গে মুঠোফোনে সার্জেন্ট সবুজের কথা বলিয়ে দেন। মোবাইল ফোনে লিটন সার্জেন্ট সবুজকে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে বলেন। সার্জেন্ট তাতে সম্মত না হলে লিটন তাঁর দলবল পাঠিয়ে সবুজকে শায়েস্তা করা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ করেন সার্জেন্ট সবুজ।
সার্জেন্ট সবুজ বলেন, শিষ্টাচার যেটাকে বলে, সেটা ওনার মধ্যে নেই। উনি সবার সঙ্গেই রূঢ় আচরণে কথা বলেন। তাঁর আচার-আচরণ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং অশালীন। তিনি মুঠোফোনে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। পোলাপান পাঠাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, ঘটনার সময় সেখানে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সেই বিএনপি নেতা লিটনের নাম, ঠিকানা ও পদবি লিখে নিয়ে কিছুক্ষণ পর চলে যান। এ সময় বিএনপি নেতা লিটনের শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার এবং টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি আব্দুস সালাম পিন্টুকে অবগত করেন বলে জানা যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতা লিটন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে বিতর্কিত আচরণ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির কথা স্বীকার করে বলেন, একটি অসাধু চক্র তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ কথোপকথন ও তর্কবিতর্কের। সেখানে কোনো গালিগালাজ বা হুমকির উদ্দেশ্যে কিছু বলা হয়নি।
আর এ ঘটনার বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা লিটনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আর তার সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ বলেন, সার্জেন্ট সবুজ ঘটনাটি জানিয়েছেন।
এঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স